সিলেটের চা শ্রমিকদের দেড়শ বছরের ইতিহাস ও বাগান সংস্কৃতির বিবর্তন
ব্রিটিশ আমলে আসাম ও ওড়িশা থেকে আনা চা শ্রমিকরা রক্ত-ঘাম দিয়ে পাহাড়ি জঙ্গল কেটে গড়ে তুলেছিলেন আজকের রূপসী চা বাগান। শতাব্দী পেরিয়ে তাদের স্বতন্ত্র ভাষা ও কৃষ্টি আজও উজ্জ্বল।
কৃষি বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও অভিজ্ঞ কলামিস্টদের গঠনমূলক মতামত, বিশ্লেষণ ও সম্পাদকীয় বার্তা।
ব্রিটিশ আমলে আসাম ও ওড়িশা থেকে আনা চা শ্রমিকরা রক্ত-ঘাম দিয়ে পাহাড়ি জঙ্গল কেটে গড়ে তুলেছিলেন আজকের রূপসী চা বাগান। শতাব্দী পেরিয়ে তাদের স্বতন্ত্র ভাষা ও কৃষ্টি আজও উজ্জ্বল।
হাইব্রিড ও জিএম বীজের আগ্রাসনে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর দেশীয় ফসলের বীজ নিজ হাতে সংগ্রহ ও বিনিময় করে মাটির উর্বরতা ও স্বাধীনতা রক্ষা করছেন দেশের প্রান্তিক নারীরা।
“আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে— এই বাংলায়/ হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে/ হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে...” কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার সেই নবান্ন ফিরেছে বাংলার ঘরে ঘরে।
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস অবরুদ্ধ বাংলাদেশে গেরিলা যোদ্ধাদের অন্ন যুগিয়েছিলেন গ্রামের সাধারণ কৃষক। শত্রুসেনার আগুন ও লুটপাট সত্ত্বেও কৃষকের অবিচল চাষাবাদ দেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
ডিজেল বা বিদ্যুৎচালিত পাম্প আবিষ্কারের আগে খাল-বিল থেকে কৃষিজমিতে পানি তুলতে কাঠ খোদাই করে তৈরি হতো ‘দোং’ এবং বাঁশ-দড়ির ত্রিকোণ ‘সেউতি’। লোকজ এই সেচ প্রযুক্তি পরিবেশের কোনো ক্ষতি করত না।
একসময় গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল মাটির সানকি, কলস ও হাঁড়ি। প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের দাপটে সেই বাজার সংকুচিত হলেও টেরাকোটা ও শৌখিন সামগ্রীর কল্যাণে নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে কুমারপাড়া।
উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব নৌবাণিজ্য ও খাদ্য পরিবহণের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল বাংলার পাট। বিশ্বখ্যাত ড্যান্ডি শহরের জুট মিলগুলো চলত শীতলক্ষ্যা আর মেঘনা তীরের কাঁচা পাটের জোগানে।
রেশম নগরী রাজশাহীর ইতিহাস শত বছরের। তুঁত গাছের চাষ থেকে শুরু করে রেশম মথের ডিম ফোটানো এবং কোকুন বা গুটি থেকে রেশমি সুতো ছাড়ানোর এই সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া দেশের অন্যতম গৌরবময় শিল্প ঐতিহ্য।
১৭৯৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেছিল, তা বাংলার নিজস্ব কৃষিব্যবস্থার মূলে কুঠারাঘাত হানে। কৃষকের হাত থেকে জমির মালিকানা কেড়ে নিয়ে তৈরি করা হয় কৃত্রিম জমিদার শ্রেণি।
বিয়ে-শাদি থেকে শুরু করে যে কোনো সামাজিক মিলনমেলায় খাবারের শেষ পাতে এক খিলি মিষ্টি পানের জুড়ি মেলা ভার। পানের বরজের ভেতরের শান্ত পরিবেশ ও পান চাষীদের শতাব্দী প্রাচীন সংস্কৃতি আজও অমলিন।
“সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে...” কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় মরা কালিন্দী নদীর তীরে বসেছে সাধুসঙ্গ ও বাউল গানের মিলনমেলা। মাটির সোঁদা গন্ধ আর ফসলের গানের সুরে একাকার গ্রামবাংলার মানুষ।
শীতের শুরুতে সোনালী আমন ধান কেটে ঘরে তোলার পর বাঙালি গৃহস্থ ঘরে ঘরে শুরু হতো ‘নতুন অন্ন’ বা নবান্ন উৎসব। ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে এটি ছিল বাংলার সর্বজনীন লোকোৎসব।