মুক্তিযোদ্ধাদের অন্নসংস্থান, আশ্রয় ও পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে গ্রামবাংলার কৃষকদের আত্মত্যাগ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবরুদ্ধ বাংলায় খাদ্য সরবরাহ ও কৃষকের প্রতিরোধ

মো. শফিউল আলম, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক(চিফ এডিটর)
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ৩৪১০ বার পঠিত
গ্রামবাংলার শান্ত নদী ও ধানক্ষেতের পটভূমিতে গ্রামীণ কৃষকের প্রতিকৃতি
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্ন ও আশ্রয় যুগিয়ে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিজয়ী করেছিলেন বাংলার কৃষক।ছবি: কৃষিবার্তা মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস ডেস্ক
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • ১৯৭১ সালে অবরুদ্ধ বাংলায় মুক্তিযোদ্ধাদের অন্ন ও আশ্রয় নিশ্চিত করেছিলেন কৃষকরা
  • শত্রুর আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞের মুখেও ফসল উৎপাদন অব্যাহত রেখেছিলেন গ্রামবাসী
  • স্বাধীনতার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে খাদ্য উৎপাদন পুনরুদ্ধারে কৃষকের ঐতিহাসিক অবদান

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলার কৃষক সমাজ কেবল প্রত্যক্ষ অস্ত্রধারী যুদ্ধেই অংশ নেয়নি, বরং তাদের চেয়েও বড় ভূমিকা ছিল পুরো যুদ্ধকালীন খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলকে টিকিয়ে রাখা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বোমাবর্ষণ ও পাইকারি গণহত্যার মুখেও কৃষকরা খেত ছেড়ে পালিয়ে যাননি, নিয়মিত ফসল ফলিয়েছেন।

গেরিলা ক্যাম্পের খাদ্য জোগানদাতা কৃষক

গ্রামের প্রতিটি বাড়ি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন ঘাঁটি। নিজের সন্তানদের অর্ধেক আহার দিয়ে গৃহবধূরা হাঁড়িতে ভাত চড়াতেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। খেতের ধান কেটে লুকিয়ে রাখা হতো মাটির নিচে বা নদীর চরে, যাতে পাকিস্তানি সেনারা তা পুড়িয়ে দিতে না পারে।

মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষি গবেষক বলেন, "যুদ্ধে অস্ত্র যত গুরুত্বপূর্ণ, খাদ্য তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সাধারণ কৃষকরা যদি গোপনে গ্রামে গ্রামে খাদ্য সরবরাহ ও লজিস্টিক সাপোর্ট না দিতেন, তবে কোনো গেরিলা বাহিনীর পক্ষেই নয় মাস টিকে থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব হতো না।"

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনর্গঠন

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৬ ডিসেম্বর যখন সাড়ে সাত কোটি মানুষ মুক্তির আনন্দে মাতোয়ারা, তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শূন্য খাদ্যগুদাম থাকা সত্ত্বেও কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে এক বছরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদনে দেশ ঘুরে দাঁড়ায়।

প্রতিবেদক পরিচিতি

মো. শফিউল আলম, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।