বরেন্দ্র অঞ্চল যুগে যুগে পরিচিত ছিল খরাপ্রবণ ও রুক্ষ ভূমি হিসেবে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেও মাটির লাল এঁটেল গঠনের কারণে পানি দ্রুত গড়িয়ে নদীতে চলে যেত এবং শীত ও গ্রীষ্মে সৃষ্টি হতো তীব্র পানির সংকট। এই ভূপ্রাকৃতিক সংকট মোকাবিলায় অষ্টম শতাব্দীতে পাল সাম্রাজ্যের শাসকগণ বরেন্দ্র অঞ্চলে খনন করেছিলেন হাজার হাজার সুবিশাল দীঘি ও জলাশয়— যার অন্যতম উদাহরণ নওগাঁর দিব্যকের স্মৃতিবিজড়িত দীঘি, রামপালের রামসাগর ও মহীপালের মহীসন্তোষ দীঘি।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও প্রাচীন সেচ নালা
পাল আমলের প্রকৌশলীরা বর্ষার ঢলের পানি ধরে রাখতে চারদিকে সুবিশাল উঁচু পাড় বেঁধে দীঘিগুলো খনন করতেন। প্রতিটি দীঘির সাথে যুক্ত ছিল কাঠের তৈরি স্লুইস গেট ও বাঁকানো সেচ নালা। খরা মৌসুমে সেই নালা দিয়ে মাইলের পর মাইল ফসলি জমিতে অভিকর্ষজ টানে সেচের পানি পৌঁছে দেওয়া হতো।





