শুষ্ক খরাপ্রবণ বরেন্দ্রভূমিতে হাজার বছর আগে খনন করা ঐতিহাসিক দীঘিগুলো আজও সাক্ষ্য দেয় প্রাচীন কৃষিপ্রযুক্তির

পাল আমলের বরেন্দ্র দীঘি ও প্রাচীন বাংলার জলব্যবস্থাপনার ঐতিহাসিক স্মৃতি

শামসুল হুদা, প্রত্নতত্ত্ব ও প্রাচীন কৃষি প্রতিবেদক(চিফ এডিটর)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২৭৩২ বার পঠিত
বরেন্দ্র অঞ্চলের সুবিশাল প্রাচীন দীঘি ও চারপাশের সবুজ পাড়
পাল আমলে খনন করা প্রাচীন ঐতিহাসিক দীঘি যা শতাব্দী ধরে কৃষির সেচকাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।ছবি: কৃষিবার্তা ঐতিহ্য ডেস্ক / নওগাঁ ব্যুরো
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • পাল আমলে বরেন্দ্র অঞ্চলে খনন করা সুবিশাল দীঘি ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি
  • বিদ্যুৎবিহীন যুগে অভিকর্ষজ ঢাল ও কাঠের স্লুইস গেট দিয়ে ফসলি জমিতে সেচ সরবরাহ
  • নওগাঁর আলতাদীঘি ও দিনাজপুরের রামসাগরের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও কৃষি গুরুত্ব
  • ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় ঐতিহাসিক জলাশয়গুলো পুনর্খননের আধুনিক কর্মসূচি

বরেন্দ্র অঞ্চল যুগে যুগে পরিচিত ছিল খরাপ্রবণ ও রুক্ষ ভূমি হিসেবে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেও মাটির লাল এঁটেল গঠনের কারণে পানি দ্রুত গড়িয়ে নদীতে চলে যেত এবং শীত ও গ্রীষ্মে সৃষ্টি হতো তীব্র পানির সংকট। এই ভূপ্রাকৃতিক সংকট মোকাবিলায় অষ্টম শতাব্দীতে পাল সাম্রাজ্যের শাসকগণ বরেন্দ্র অঞ্চলে খনন করেছিলেন হাজার হাজার সুবিশাল দীঘি ও জলাশয়— যার অন্যতম উদাহরণ নওগাঁর দিব্যকের স্মৃতিবিজড়িত দীঘি, রামপালের রামসাগর ও মহীপালের মহীসন্তোষ দীঘি।

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও প্রাচীন সেচ নালা

পাল আমলের প্রকৌশলীরা বর্ষার ঢলের পানি ধরে রাখতে চারদিকে সুবিশাল উঁচু পাড় বেঁধে দীঘিগুলো খনন করতেন। প্রতিটি দীঘির সাথে যুক্ত ছিল কাঠের তৈরি স্লুইস গেট ও বাঁকানো সেচ নালা। খরা মৌসুমে সেই নালা দিয়ে মাইলের পর মাইল ফসলি জমিতে অভিকর্ষজ টানে সেচের পানি পৌঁছে দেওয়া হতো।

প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক আবুল বাশার জানান, "রামসাগর বা আলতাদীঘি কেবল দর্শনীয় স্থান নয়, এগুলো প্রাচীন বাংলার অসাধারণ হাইড্রোলজিক্যাল বিজ্ঞানের প্রমাণ। বিদ্যুৎ বা পাম্প ছাড়া কেবল প্রাকৃতিক ঢাল কাজে লাগিয়ে হাজার বছর আগে পুরো একটি অঞ্চলের কৃষি টিকিয়ে রাখা হয়েছিল।"

ঐতিহাসিক দীঘির আধুনিক পুনরুজ্জীবন

বর্তমান যুগে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট মোকাবিলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এই ঐতিহাসিক দীঘি ও খাড়িগুলো পুনর্খনন করে সৌরচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়ার আধুনিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

শামসুল হুদা, প্রত্নতত্ত্ব ও প্রাচীন কৃষি প্রতিবেদক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

পাল আমলের বরেন্দ্র দীঘি ও প্রাচীন বাংলার জলব্যবস্থাপনার ঐতিহাসিক স্মৃতি | কৃষিবার্তা