‘নিজ খোলানে ধান তোল’ স্লোগানে দিনাজপুরের কৃষক বিদ্রোহ গ্রামীণ ভূমি অধিকারের ভিত্তি গড়েছিল

উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন ও বর্গাচাষীদের ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ইতিহাস গবেষক(চিফ এডিটর)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ৩১৫১ বার পঠিত
ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের স্মারক স্মৃতিস্তম্ভ ও সবুজ মাঠ
উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক কৃষকদের রক্তক্ষয়ী তেভাগা আন্দোলন বাংলার ভূমি সংস্কারের পথ তৈরি করেছিল।ছবি: কৃষিবার্তা ঐতিহ্য ডেস্ক
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • ১৯৪৬ সালে উত্তরবঙ্গে জোতদারি শোষণের বিরুদ্ধে তেভাগা আন্দোলনের সূচনা
  • ‘নিজ খোলানে ধান তোল’ স্লোগানে বর্গাচাষীরা ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ দাবি করেন
  • হাজী দানেশ ও ইলা মিত্রের নেতৃত্ব বাংলার কৃষক জাগরণের অমর ইতিহাস

বাংলার কৃষিসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও ত্যাগী অধ্যায়গুলোর একটি হলো তেভাগা আন্দোলন। জোতদার ও মহাজনদের নির্মম শোষণ, অর্ধেকের বেশি ফসল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া এবং নানাবিধ অবৈধ আবওয়াব করের বিরুদ্ধে দিনাজপুর, রংপুর ও রাজশাহীর কৃষকরা লাঠি ও কাঁচি হাতে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।

‘আধি নয়, তেভাগা চাই’ স্লোগানের বিস্তার

কমরেড হাজী দানেশ, ইলা মিত্র এবং হাজার হাজার সাঁওতাল, রাজবংশী ও বাঙালি কৃষকের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে তেভাগা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। জোতদারের খামারের বদলে কৃষকরা ‘নিজ খোলানে ধান তোল’ ধ্বনিতে নিজেদের উঠোনে ধান মাড়াই শুরু করেন। এই আন্দোলনে বহু কৃষক জীবন উৎসর্গ করেন।

ইতিহাসবিদ ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, "তেভাগা আন্দোলন শুধু ফসলের ভাগ পাওয়ার লড়াই ছিল না, এটি ছিল সামন্ততান্ত্রিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রান্তিক কৃষকের আত্মমর্যাদার প্রথম সম্মিলিত সামাজিক মহাবিস্ফোরণ। পরবর্তীতে জমিদারি উচ্ছেদ আইনের পেছনে এই আন্দোলনের সরাসরি চাপ কার্যকর ছিল।"

আধুনিক কৃষি অধিকারের অনুপ্রেরণা

আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, বর্গাচাষীদের সুরক্ষা এবং ভূমিহীনদের অধিকারের যে দাবিগুলো উত্থাপিত হয়, তার আদর্শিক উৎস লুকিয়ে আছে ঐতিহাসিক তেভাগার সংগ্রামী চেতনায়।

প্রতিবেদক পরিচিতি

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ইতিহাস গবেষক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন ও বর্গাচাষীদের ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম | কৃষিবার্তা