নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুর ও গারো পাহাড়ের পাদদেশে একসময় প্রচলিত ছিল কুখ্যাত ‘টঙ্ক প্রথা’। এই প্রথার নিয়ম ছিল— জমিতে ফসল ফলুক বা বন্যায় নষ্ট হোক, কৃষককে জমিদারের ঘরে নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান খাজনা হিসেবে তুলে দিতেই হবে। নিজের ও সন্তানের পেটে ভাত না থাকলেও জমিদারের পাওনা পরিশোধ করতে গিয়ে ভিটেমাটি হারাতে হতো পাহাড়ি হাজং চাষীদের। এই অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধেই চল্লিশের দশকে গর্জে উঠেছিল কৃষক সমাজ।
কমরেড মণি সিংহ ও সংগ্রামী কৃষকদের প্রতিরোধ
মণি সিংহের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতি টঙ্ক আন্দোলনের ডাক দেয়। কৃষকরা স্লোগান তোলে— "জান দেব তবু ধান দেব না।" হাজং রমণী রাসমণি হাজং নিজের জীবন উৎসর্গ করে ব্রিটিশ পুলিশ ও জমিদারের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনীর বন্দুকের মুখে দাঁড়িয়েছিলেন। রাসমণির সেই আত্মত্যাগ আজও কৃষকের আত্মমর্যাদার প্রতীক।





