শতাব্দী প্রাচীন গভীর পানির আমনের ঐতিহ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার আধুনিক কৃষি বিজ্ঞান

বরেন্দ্র ও বদ্বীপ বাংলায় আমন ধান চাষের ঐতিহাসিক বিবর্তন: সনাতন জাত থেকে আধুনিক উচ্চফলনশীলে রূপান্তর

বার্তা ডেস্ক(চিফ এডিটর)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ AM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ বার পঠিত
প্লাবিত বিস্তীর্ণ জলাশয়ের ওপর জেগে থাকা গভীর পানির ধানের মাঠ
বন্যার পানির উচ্চতার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী বোনা আমন বাংলার শতবর্ষের জীববৈচিত্র্য।ছবি: কৃষিবার্তা ফটো ডেস্ক
হরফ:
বাংলার কৃষি সংস্কৃতির মূল চালিকাশক্তি রোপা ও বোনা আমন ধান। ঐতিহাসিকভাবে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ ও বরেন্দ্র অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে উঠেছিল এখানকার ঐতিহ্যবাহী ধান চাষ পদ্ধতি। ঐতিহাসিক দলিল ও কৃষি গবেষণায় দেখা যায়, উনিশ শতকের শুরুতে বাংলায় শত শত দেশীয় জাতের আমন চাষ হতো। বিশেষ করে হাওর ও প্লাবনভূমিতে প্রচলিত ছিল ‘হিজলদীঘা’, ‘বাইশমুড়ি’ ও ‘কালামানিক’-এর মতো গভীর পানির ধান, যা বন্যার পানির বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কয়েক ফুট পর্যন্ত বেড়ে ওঠার প্রাকৃতিক ক্ষমতা রাখত। অন্যদিকে বরেন্দ্র অঞ্চলের খরাপ্রবণ মাটিতে চাষ হতো স্বল্পমেয়াদি বিশেষ জাত। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর বিজ্ঞানীগণ দেশীয় এসব জাতের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মাটির পুষ্টি গ্রহণের গুণাগুণ কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন করেন ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৭৫ ও ব্রি ধান-৮৭-এর মতো উচ্চফলনশীল জাত। ঐতিহ্যের সেই সমৃদ্ধ জিনপুলকে ভিত্তি করেই আজকের আধুনিক বাংলাদেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতার দৃঢ় ভিত রচনা করেছে।
প্রতিবেদক পরিচিতি

বার্তা ডেস্ক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

বরেন্দ্র ও বদ্বীপ বাংলায় আমন ধান চাষের ঐতিহাসিক বিবর্তন: সনাতন জাত থেকে আধুনিক উচ্চফলনশীলে রূপান্তর | কৃষিবার্তা