ভূমি কর আদায়ে কোম্পানি শাসনের শোষণমূলক নীতির ফলে বদলে গিয়েছিল গ্রামীণ ভূ-রাজনীতি

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলার গ্রামীণ কৃষিসমাজে এর সুদূরপ্রসারী সামাজিক প্রভাব

মো. রশীদুজ্জামান, প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস ডেস্ক(চিফ এডিটর)
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২০৪০ বার পঠিত
গ্রামের প্রাচীন জমিদার বাড়ির ভগ্নাবশেষ ও ইট-পাথরের প্রাচীন দেওয়াল
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দেড়শ বছরের সামন্ততান্ত্রিক শাসন বাংলার গ্রামীণ কৃষকদের জীবনে গভীর দাগ রেখে গেছে।ছবি: কৃষিবার্তা প্রত্নতত্ত্ব ডেস্ক
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কৃষকদের অধিকারবঞ্চিত করে
  • সূর্যাস্ত আইনের চাপে কৃষকের ওপর নির্মম খাজনা আদায়ের সামন্ততান্ত্রিক জুলুম
  • নীল বিদ্রোহ ও তিতুমীরের কৃষক বিপ্লবের মূল ঐতিহাসিক কারণ ছিল এই শোষণ

মুঘল আমল পর্যন্ত বাংলার ভূমিস্বত্ব ব্যবস্থার মূল নীতি ছিল—‘যে জমি চাষ করে, জমি তারই’। কিন্তু পলাশী যুদ্ধের পর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি খাজনা আদায় সর্বোচ্চ করার লক্ষ্যে লর্ড কর্নওয়ালিসের মাধ্যমে প্রবর্তন করে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। নিলামে সর্বোচ্চ ডাক দেওয়া ব্যক্তিদের জমির বংশানুক্রমিক মালিক বানিয়ে দেওয়া হয়।

সূর্যাস্ত আইন ও কৃষকের দুরবস্থা

নির্ধারিত দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে রাজকোষে খাজনা জমা না দিলে জমিদারি নিলামে উঠত। এই ‘সূর্যাস্ত আইন’ এর কারণে জমিদাররা প্রজাদের ওপর নির্মম পীড়ন চালাত। সামান্য খরার কারণে ফসল না হলেও কৃষককে ভিটেমাটি বিক্রি করে খাজনা শোধ করতে হতো।

ইতিহাসবিদরা জানান, এর ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল নীল বিদ্রোহ, পাবনা কৃষক বিদ্রোহ এবং ফরায়েজী আন্দোলনের মতো কৃষক বিপ্লব। হাজী শরিয়তুল্লাহ ও তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার লড়াই ছিল মূলত এই ঔপনিবেশিক ভূমি শোষণের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ।

কৃষক চেতনার বিকাশ

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের এই ঐতিহাসিক শোষণই পরবর্তীতে বাঙালি কৃষকদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলে এবং বিংশ শতাব্দীর ভূমি সংস্কার আন্দোলনের পটভূমি রচনা করে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

মো. রশীদুজ্জামান, প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস ডেস্ক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলার গ্রামীণ কৃষিসমাজে এর সুদূরপ্রসারী সামাজিক প্রভাব | কৃষিবার্তা