অগ্রহায়ণ মাসে নতুন আমন ধানের পিঠা-পুলি, পায়েস আর লোকগীতিতে কৃষক পরিবারের আনন্দ

বাংলার নবান্ন উৎসবের নৃতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট ও লোকজ কৃষি সংস্কৃতির উৎস

ড. অনিন্দিতা রায়, নৃবিজ্ঞান গবেষক(চিফ এডিটর)
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২৮৫০ বার পঠিত
পাকা সোনালী ধানের শিষ ও গ্রামীণ নবান্ন উৎসবের ঐতিহ্য
নতুন ধানের ঘ্রাণে বাংলার ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসবের লোকজ সংস্কৃতি শতবর্ষের সম্প্রীতির প্রতীক।ছবি: কৃষিবার্তা লোকশিল্প ডেস্ক
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • অগ্রহায়ণ মাসে নতুন আমন ধান ঘরে তুলে সর্বজনীন নবান্ন উৎসবের চিরায়ত ঐতিহ্য
  • ঢেঁকিতে ছাঁটা নতুন চালের পিঠাপুলি ও পায়েসে গ্রামীণ আতিথেয়তার প্রকাশ
  • শহুরে নাগরিক জীবনেও জাতীয় নবান্ন উৎসবের মাধ্যমে শিকড়ের সংস্কৃতি উদযাপন

আবহমান বাংলার সামাজিক ক্যালেন্ডারে অগ্রহায়ণ মাস ছিল আনন্দের বার্তা নিয়ে আসা এক বিশেষ ঋতু। মাঠজুড়ে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ, কৃষকের মাথায় ধানের আঁটি আর উঠোনে ঢেঁকির শব্দে মুখরিত হতো প্রতিটি জনপদ। এই নবান্ন শুধু একটি উৎসব নয়, এটি ছিল প্রকৃতির প্রতি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রাচীন লোকঐতিহ্য।

নতুন চালের পিঠা ও ক্ষীর-পায়েসের আয়োজন

নবান্নের প্রথম দিনে নতুন চালের ভাত রান্না করে কাক ও পাখিদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হতো, যাকে বলা হতো ‘কাকবলি’। এরপর নতুন চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হতো ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলি ও দুধের ক্ষীর। বিবাহিত কন্যারা নাইওর আসত বাপের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হতো।

নৃতাত্ত্বিক গবেষকরা জানান, প্রাচীন কৃষিভিত্তিক সমাজে এই উৎসবটি ছিল প্রকৃতির সাথে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রকাশ। ফসল তোলার পর ক্লান্তি ভুলে কৃষকরা মেতে উঠতেন জারি-সারি ও বাউল গানের আসরে।

জাতীয় নবান্ন উৎসব ও আধুনিক নাগরিক চেতনা

আজকের শহুরে কংক্রিটের জগতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা প্রাঙ্গণসহ জেলা শহরগুলোতে প্রতি বছর ১লা অগ্রহায়ণে জাতীয় নবান্ন উৎসব আয়োজিত হয়, যা শিকড়ের সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

ড. অনিন্দিতা রায়, নৃবিজ্ঞান গবেষক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

বাংলার নবান্ন উৎসবের নৃতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট ও লোকজ কৃষি সংস্কৃতির উৎস | কৃষিবার্তা