নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা তীর থেকে লন্ডনের ড্যান্ডি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বাংলার পাটের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য

প্রাচীন বাংলার সোনালী আঁশ: বিশ্বজুড়ে ঢাকাই মসলিন ও পাট ব্যবসার ঐতিহ্য

মো. দেলোয়ার হোসেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ডেস্ক(চিফ এডিটর)
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২৪৯১ বার পঠিত
নদীতীরে সোনালী আঁশ শুকানোর দৃশ্য ও ঐতিহাসিক নদীপথ
শতাব্দী প্রাচীন নদীপথে নৌকায় করে পাট মোকামে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বাংলার সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক ইতিহাসের স্মারক।ছবি: কৃষিবার্তা হেরিটেজ ফটো
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • নারায়ণগঞ্জ ‘প্রাচ্যের ড্যান্ডি’ হিসেবে বিশ্ব পাট বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল
  • বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহণ ও জাহাজের দড়ির শতভাগ সরবরাহ আসত বাংলার পাট থেকে
  • আধুনিক ইকো-ফ্রেন্ডলি বিশ্বে সোনালী আঁশের ঐতিহাসিক গুরুত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে

শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জকে একসময় বলা হতো ‘প্রাচ্যের ড্যান্ডি’। কারণ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের বস্তা, পালতোলা জাহাজের দড়ি ও কার্পেট তৈরির প্রধান কাঁচামাল আসত বাংলার উর্বর পলিমাটির পাটক্ষেত থেকে। আষাঢ়-শ্রাবণে নদী ও খালে পাট জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়ানোর দৃশ্য ছিল বাংলার চিরকালীন রূপ।

নদীবন্দর ও ঐতিহাসিক পাট মোকাম

নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ, সারদা ও চাঁদপুরের পাট মোকামগুলোতে শত শত বড় মহাজনী নাও ভিড় করত। ইংরেজ ও স্কটিশ বণিকরা এখানে এসে পাটের বেলিং কারখানা স্থাপন করেছিলেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অর্থনীতিতে বাংলার পাটের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন তাঁর এক গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, "প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পরিখার বালুর বস্তা থেকে শুরু করে যুদ্ধজাহাজের পণ্য বহনের জন্য কোটি কোটি পাটের থলে সরবরাহ করেছিল বাংলা। বাংলার কৃষকের রক্তের দামে সমৃদ্ধ হয়েছিল ইউরোপের অর্থনীতি।"

আধুনিক যুগে পুনরুজ্জীবন

সিনথেটিক প্লাস্টিকের আগ্রাসনে কয়েক দশক পাট শিল্প সংকটে থাকলেও, আজকের জলবায়ু সচেতন বিশ্বে আবার সেই সোনালী আঁশের দিন ফিরে আসছে নতুন শক্তিতে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

মো. দেলোয়ার হোসেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ডেস্ক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

প্রাচীন বাংলার সোনালী আঁশ: বিশ্বজুড়ে ঢাকাই মসলিন ও পাট ব্যবসার ঐতিহ্য | কৃষিবার্তা