ফসলের মৌসুমে মজুর সংকট ও অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের কারণে কৃষকের পাকা ধান ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়ত। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে যশোর ও ঝিনাইদহের প্রান্তিক কৃষকরা নতুন ধারার ‘কৃষি যন্ত্রপাতি সমবায় সমিতি’ গঠন করেছেন।
৫০% সরকারি ভর্তুকি ও যৌথ মূলধন
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকার কম্বাইন হারভেস্টার কেনার জন্য শতকরা ৫০ ভাগ আর্থিক অনুদান দেয়। বাকি টাকার জোগান দেন সমবায়ের সদস্যরা নিজেদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার 'সূর্যমুখী কৃষক সমবায় সমিতি'র সভাপতি মো. আকতারুজ্জামান বলেন, "আমাদের সমিতির ৩০ জন কৃষক প্রতি সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে জমা করে মূলধন গড়েছিলাম। সরকার ১৫ লাখ টাকা অনুদান দিল, আমরা দিলাম ১৫ লাখ। একটি হারভেস্টার দিয়ে একদিনে আমাদের পুরো মাঠের ধান কাটা শেষ হয়েছে, আর অন্য কৃষকদের ধান কেটে দিয়ে সমিতির ফান্ডে ৫ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।"
ডিজিটাল পরিচালনা ও লভ্যাংশ বণ্টন
সমিতির হিসাব-নিকাশ একটি স্বচ্ছ মোবাইল সফটওয়্যারে পরিচালিত হয়। বছর শেষে মেরামত ব্যয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মুনাফা সকল সদস্যের মাঝে লভ্যাংশ আকারে বণ্টন করা হয়, যা গ্রামীণ পুঁজিপাটায় অনন্য সামাজিক রূপান্তর।