যশোর ও ঝিনাইদহের চাষীদের সমবায় সমিতি যৌথভাবে কম্বাইন হারভেস্টার কিনে কৃষিশ্রম সংকট দূর করছে

সমবায় ভিত্তিক চাষাবাদে প্রান্তিক কৃষকদের পুঁজি গঠন ও যৌথ যন্ত্রাংশ কেনার মডেল

মো. শাহজাহান কবির, ঝিনাইদহ(চিফ এডিটর)
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ১৯২১ বার পঠিত
সবুজ ধানের মাঠে আধুনিক কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা
সমবায় ভিত্তিক যৌথ মূলধনে কেনা কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকরা।ছবি: কৃষিবার্তা প্রতিনিধি / ঝিনাইদহ
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • সমবায়ের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ সরকারি ভর্তুকিতে আধুনিক কম্বাইন হারভেস্টার ক্রয়
  • একই দিনে পুরো মাঠের ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি শূন্য
  • যন্ত্র ভাড়া দিয়ে সমবায়ের ফান্ডে প্রতি মৌসুমে লাখ টাকার বাড়তি মুনাফা

ফসলের মৌসুমে মজুর সংকট ও অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের কারণে কৃষকের পাকা ধান ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়ত। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে যশোর ও ঝিনাইদহের প্রান্তিক কৃষকরা নতুন ধারার ‘কৃষি যন্ত্রপাতি সমবায় সমিতি’ গঠন করেছেন।

৫০% সরকারি ভর্তুকি ও যৌথ মূলধন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকার কম্বাইন হারভেস্টার কেনার জন্য শতকরা ৫০ ভাগ আর্থিক অনুদান দেয়। বাকি টাকার জোগান দেন সমবায়ের সদস্যরা নিজেদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার 'সূর্যমুখী কৃষক সমবায় সমিতি'র সভাপতি মো. আকতারুজ্জামান বলেন, "আমাদের সমিতির ৩০ জন কৃষক প্রতি সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে জমা করে মূলধন গড়েছিলাম। সরকার ১৫ লাখ টাকা অনুদান দিল, আমরা দিলাম ১৫ লাখ। একটি হারভেস্টার দিয়ে একদিনে আমাদের পুরো মাঠের ধান কাটা শেষ হয়েছে, আর অন্য কৃষকদের ধান কেটে দিয়ে সমিতির ফান্ডে ৫ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।"

ডিজিটাল পরিচালনা ও লভ্যাংশ বণ্টন

সমিতির হিসাব-নিকাশ একটি স্বচ্ছ মোবাইল সফটওয়্যারে পরিচালিত হয়। বছর শেষে মেরামত ব্যয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মুনাফা সকল সদস্যের মাঝে লভ্যাংশ আকারে বণ্টন করা হয়, যা গ্রামীণ পুঁজিপাটায় অনন্য সামাজিক রূপান্তর।

প্রতিবেদক পরিচিতি

মো. শাহজাহান কবির, ঝিনাইদহ

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

সমবায় ভিত্তিক চাষাবাদে প্রান্তিক কৃষকদের পুঁজি গঠন ও যৌথ যন্ত্রাংশ কেনার মডেল | কৃষিবার্তা