যন্ত্রবিহীন আবহমান বাংলায় কাঠ ও টিনের দোলায় খাল থেকে পানি তোলার লোকপ্রকৌশল

সনাতন সেচ পদ্ধতি দোং ও সেউতির কার্যকারিতা এবং ঐতিহাসিক ব্যবহার

মো. শাহাবুদ্দিন, লোকপ্রকৌশল গবেষক(চিফ এডিটর)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ১৮৫১ বার পঠিত
গ্রামের প্রাচীন খালের পাড়ে কাঠের দোং ও কৃষক সেচ ব্যবস্থা
যন্ত্রবিহীন যুগে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে খালের পানি জমিতে সেচ দেওয়ার ঐতিহ্যবাহী লোকপ্রযুক্তি।ছবি: কৃষিবার্তা ফটো আর্কাইভ
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • তালগাছের কাণ্ড খোদাই করে নির্মিত দোং ছিল প্রাচীন বাংলার জিরো-এনার্জি সেচ যন্ত্র
  • সেউতি চালনায় যৌথ শ্রম ও গ্রামীণ সারিগানের এক চমৎকার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ছিল
  • কোনো কার্বন নিঃসরণ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে কৃষিজমিতে পানি সেচের লোকপ্রকৌশল

বাংলার নদী-নালা ও খালের অগভীর পানি দিয়ে রবিশস্যে পানি দিতে গ্রামীণ মেকানিক্সের সেরা উদ্ভাবন ছিল ‘দোং’ বা ‘জাঁত’। তালগাছের কাণ্ড অথবা শিমুল কাঠের বড় গুঁড়িকে ভেতর থেকে খোদাই করে নৌকার মতো দীর্ঘ ডোঙ্গা তৈরি করা হতো। এক প্রান্তে ওজনদার মাটির চাঁই বেঁধে বাঁশের লিভারের সাহায্যে অনায়াসে পানি জমিতে তোলা যেত।

সেউতির যৌথ শ্রম ও ছন্দময় গান

অন্যদিকে নিচু ডোবা থেকে দ্রুত পানি সেচতে দুইজনে মিলে চার দড়িতে ঝোলানো টিনের বা বাঁশের তৈরি ‘সেউতি’ চালানো হতো। এতে এক ধরনের ছন্দময় দোলা থাকত এবং কৃষকরা কাজের ক্লান্তি দূর করতে সমস্বরে সারিগান গাইতেন।

নড়াইল ও মাগুরা অঞ্চলের শতবর্ষী কৃষক মোজাম্মেল হক স্মৃতিচারণ করে বলেন, "দোং দিয়ে সেচ দিলে মাটির কোনো ক্ষয়রোধ হতো না, মৃদু স্রোতে পানি জমিতে ছড়িয়ে পড়ত। সারারাত দোং চালিয়ে সকালে দেখতাম পুরো গম ও সরিষার জমি ভিজে গেছে।"

সবুজ সেচ ও ঐতিহ্যের স্মারক

যদিও আধুনিক ডিজেল ও সৌর পাম্প এই সনাতন পদ্ধতিকে বিলুপ্ত করেছে, তবুও জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়া সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বলবিদ্যায় পরিচালিত এই প্রযুক্তি প্রাচীন বাংলার পরিবেশবান্ধব চিন্তার অনন্য নিদর্শন।

প্রতিবেদক পরিচিতি

মো. শাহাবুদ্দিন, লোকপ্রকৌশল গবেষক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

সনাতন সেচ পদ্ধতি দোং ও সেউতির কার্যকারিতা এবং ঐতিহাসিক ব্যবহার | কৃষিবার্তা