বিদ্যুৎবিহীন প্রাচীন যুগে বাতাস চলাচল ও পোকা প্রতিরোধী গ্রামীণ গোলাঘরের বিস্ময়কর বিজ্ঞান

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী শস্যভাণ্ডার: ঢোল, ডুলি ও মাটির মটকার স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য

মো. মতিউর রহমান, লোকসংস্কৃতি গবেষক(চিফ এডিটর)
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২৩২১ বার পঠিত
গ্রামবাংলার চিরায়ত মাটির ঘরের উঠোনে বাঁশ ও মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা
আবহমান গ্রামবাংলার কৃষক উঠোনে মাটির তৈরি ধানের গোলা শস্য সংরক্ষণের লোকজ প্রকৌশলের প্রতীক।ছবি: কৃষিবার্তা ফটো ডেস্ক
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • বাঁশ ও কাদামাটির দেয়াল শস্যের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রেখে পোকা প্রতিরোধ করত
  • ইঁদুর ও মাটির আর্দ্রতা ঠেকাতে কাঠের বা পোড়ামাটির উঁচু পায়ার ব্যবহার
  • লোকজ স্থাপত্যের এই প্রাচীন জ্ঞান আজও পরিবেশবান্ধব সংরক্ষণের সেরা উদাহরণ

আধুনিক কংক্রিটের সাইলো বা প্লাস্টিকের ড্রাম আসার আগে বাংলার প্রতিটি কৃষকবাড়ির উঠোনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকত ধানের গোলা বা ‘ডোলা’। বাঁশের শক্ত বাতার বুননের ওপর এঁটেল মাটি ও গোবরের ঘন প্রলেপ দিয়ে তৈরি হতো এই শস্যভাণ্ডার। এই লোকজ প্রযুক্তিতে লুকিয়ে ছিল গভীর বৈজ্ঞানিক কৌশল।

প্রাকৃতিক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ

মাটি ও খড়ের পুরু দেয়াল বাইরের প্রচণ্ড রোদ বা শীতকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিত না। এর ফলে গোলার ভেতরে তাপমাত্রা সবসময় স্থির থাকত এবং বীজ ধানের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা শতভাগ ভালো থাকত। গোলার তলায় চার কোণে চারটি পাথরের চাঁই বা পোড়ামাটির পায়া থাকত, যাতে মাটি থেকে কোনো আর্দ্রতা ওপরে উঠতে না পারে।

লোকসংস্কৃতি গবেষক শামসুজ্জামান খান তাঁর এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন, "বাংলার গোলাঘর শুধু শস্য রাখার স্থান ছিল না, এটি ছিল পরিবারের সমৃদ্ধি ও আতিথেয়তার প্রতীক। গোলাভরা ধান, গোয়ালভরা গরু ও পুকুরভরা মাছ—এই চিরায়ত প্রবাদের মূল উৎস ছিল মাটির নিপুণ গোলা।"

বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যের সংরক্ষণ

বর্তমানে গ্রামীণ জনপদে মাটির বড় মটকা ও ধানের গোলার দেখা মেলা ভার। জাতীয় জাদুঘর ও লোকশিল্প জাদুঘরে এই প্রাচীন শস্যভাণ্ডারের মডেল সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ বিজ্ঞান তুলে ধরা হচ্ছে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

মো. মতিউর রহমান, লোকসংস্কৃতি গবেষক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী শস্যভাণ্ডার: ঢোল, ডুলি ও মাটির মটকার স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য | কৃষিবার্তা