পানির সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিদিন কয়েক ইঞ্চি বাড়ে এমন আদি জাতের ধানের টিকে থাকার ইতিহাস

মেঘনা ও পদ্মা অববাহিকায় শত বছরের প্রাচীন গভীর পানির বোনা আমন চাষের ঐতিহ্য

ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, কৃষি প্রত্নতত্ত্ব গবেষক(চিফ এডিটর)
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২১১১ বার পঠিত
প্লাবিত বিস্তীর্ণ জলাশয়ের ওপর জেগে থাকা গভীর পানির ধানের মাঠ
বন্যার পানির উচ্চতার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী বোনা আমন বাংলার শতবর্ষের জীববৈচিত্র্য।ছবি: কৃষিবার্তা ফটো ডেস্ক
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • গভীর পানির বোনা আমন বন্যার পানির সাথে দিনে কয়েক ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়তে সক্ষম
  • কোনো রাসায়নিক সার ছাড়াই নদীবাহিত পলির পুষ্টি নিয়ে ১৫ ফুট পর্যন্ত বাড়ে
  • ডুবো-সহনশীল আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবনে এই আদি জাতের জিনগত গবেষণা চলছে

পদ্মা, মেঘনা ও ধলেশ্বরীর নিচু প্লাবনভূমিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চাষ হয়ে আসছে গভীর পানির বোনা আমন বা ‘জলি আমন’। চৈত্র-বৈশাখে শুকনো মাটিতে ছিটানো এই ধানের বীজ বর্ষা আসার আগেই শিকড় বিস্তার করে। এরপর আষাঢ়ে যখন নদীর পানি ফুলেফেঁপে ওঠে, তখন এই ধানগাছ বিস্ময়করভাবে পানির সমান তালে দিনে কয়েক ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়ে।

বাজাইল, হিজিডিগা ও ভাওয়ালিয়া জাতের ক্ষমতা

এই ধানের কাণ্ড প্রায় ১২ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কাণ্ডের প্রতিটি গিঁট থেকে নতুন করে শিকড় বের হয়ে ঘোলা পানির পলি থেকে খাবার গ্রহণ করে। বন্যা শেষ হলে কার্তিকে যখন পানি নেমে যায়, তখন দীর্ঘ লতা মাটিতে নুয়ে পড়ে সোনালী শিষ উপহার দেয়।

চাঁদপুরের মতলব অঞ্চলের প্রবীণ কৃষক আকমল হোসেন বলেন, "আমাদের বাপ-দাদারা বলতেন, পানি যত বাড়ে, আমন ধান তত হাসে। কোনো রাসায়নিক সার বা সেচ লাগত না। নাও বা নৌকায় করে ধানের শিষ কেটে ঘরে তুলতাম। এই চালের ভাত খেলে সারাদিন শরীর শক্ত থাকত।"

জলবায়ু অভিযোজনে আদি জাতের গুরুত্ব

আধুনিক কৃষিবিজ্ঞানীরা এখন এই গভীর পানির বোনা আমনের জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করছেন, যাতে ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তনের চরম বন্যায় ডুবো-সহনশীল ধান উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়।

প্রতিবেদক পরিচিতি

ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, কৃষি প্রত্নতত্ত্ব গবেষক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

মেঘনা ও পদ্মা অববাহিকায় শত বছরের প্রাচীন গভীর পানির বোনা আমন চাষের ঐতিহ্য | কৃষিবার্তা