উত্তরাঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে স্থায়ী পানি বণ্টন চুক্তি অগ্রাধিকার

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অববাহিকার কৃষকদের সেচ নিরাপত্তা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

শামসুল হুদা, নদী ও পরিবেশ বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি(চিফ এডিটর)
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ৩৮৯১ বার পঠিত
তিস্তা নদীর বিস্তৃত বালুচর ও দূরবর্তী জলধারা
শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সেচ সংকটে পড়া কৃষকরা স্থায়ী পানিচুক্তির দাবি জানিয়েছেন।ছবি: কৃষিবার্তা ফটো ডেস্ক / লালমনিরহাট ব্যুরো
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • তিস্তা নদীর শুষ্ক মৌসুমের পানিস্বল্পতায় উত্তরবঙ্গের ৫ জেলার সেচ কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত
  • আন্তর্জাতিক নদী কনভেনশন অনুযায়ী ন্যায্য পানি বণ্টনে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত
  • তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় নদীর দুই তীরে বাঁধ নির্মাণ ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সেচ খাল পুনরুজ্জীবিত করার তাগিদ
  • কৃষকের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের অভিন্ন পররাষ্ট্রিক অবস্থানের আহ্বান

বাংলাদেশের প্রধান শস্যভাণ্ডার উত্তরাঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও লাখ লাখ কৃষকের জীবন-জীবিকার স্বার্থে তিস্তা নদীর পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন কৃষক নেতা, পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজে প্রয়োজনীয় পানির প্রবাহ না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং সেচ ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

তিস্তা অববাহিকার কৃষি অর্থনীতির বিপর্যয়

রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার কৃষিজমির প্রধান সেচ নির্ভর করে তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এরিয়ার ওপর। কিন্তু ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ব্যারেজের প্রধান সেচ খালগুলো শুকিয়ে যায়। এতে আমন ও বোরো আবাদে কৃষকদের ডিজেল চালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা কৃষকের লাভের গুড় খেয়ে ফেলছে।

পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, "তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরবঙ্গের খাদ্য সুরক্ষার প্রধান ধমনী। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী ভাটির দেশ হিসেবে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সাথে নিজস্ব অর্থায়ন ও বন্ধুরাষ্ট্রের সহায়তায় নদী খনন ও জলাধার নির্মাণের মহাপরিকল্পনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু করা উচিত।"

জাতীয় ঐকমত্য ও কৃষক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি

জাতীয় সংসদে তিস্তা ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত ৫৪টি নদীর অববাহিকা ভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। তিস্তা অববাহিকার কৃষকদের সেচ সহায়তায় সৌরচালিত পাম্প স্থাপন এবং সৌর সেচ গ্রিড চালুর বিশেষ প্রকল্পও বিবেচনা করছে সরকার।

প্রতিবেদক পরিচিতি

শামসুল হুদা, নদী ও পরিবেশ বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অববাহিকার কৃষকদের সেচ নিরাপত্তা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার | কৃষিবার্তা