জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সারা বছর নিরাপদ ও উচ্চমূল্যের ফল-সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক সৌরবিদ্যুৎচালিত গ্রিনহাউস স্থাপন করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রাশেদ। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কারিগরি সহযোগিতায় উপজেলার বাকশীমুল ইউনিয়নের আগানগর উত্তরপাড়া গ্রামে এই প্রযুক্তিনির্ভর খামার গড়ে তোলা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও বিএডিসি কর্মকর্তারা প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানান।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সৌরবিদ্যুৎচালিত গ্রিনহাউস গড়ে তুললেন তরুণ উদ্যোক্তা

আব্দুল মতিনের পুত্র তরুণ উদ্যোক্তা রাশেদ জানান, প্রচলিত উন্মুক্ত চাষাবাদের বিকল্প হিসেবে রাসায়নিকমুক্ত ও নিরাপদ সবজি এবং ফল উৎপাদনের লক্ষ্যেই তিনি এই গ্রিনহাউস প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। গ্রিনহাউসের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ফসলের অনুকূলে রাখতে এতে একাধিক কুলিং ফ্যান সংযোজন করা হয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থাপন করা হয়েছে বড় আকারের সোলার পাওয়ার সিস্টেম।
নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের এই খামারে ইতিমধ্যে কলমিশাক, পুঁইশাক, ধনেপাতা, পালংশাক ও বরবটির পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ফল হিসেবে আঙুর এবং বারোমাসি তরমুজ আবাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সৌরশক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি বিরূপ আবহাওয়াতেও ফসলের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।
বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিন আক্তার জানান, গ্রিনহাউস প্রযুক্তির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির সরকারি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তরুণদের এ ধরনের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে এগিয়ে আসা দেশের অভ্যন্তরীণ পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদনের পথ সুগম করবে।
বিএডিসির কুমিল্লা আঞ্চলিক কর্মকর্তা ইসহাক মজুমদার জানান, সরকারি এই কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লা জেলায় দুটি গ্রিনহাউস প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার উভয়টিই বুড়িচং উপজেলায় অবস্থিত—একটি কুড়পাই গ্রামে এবং অন্যটি বাকশীমুল ইউনিয়নের পাল্টি রাজাপুর এলাকায়। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/news/437892)।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক
কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।




