সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজাকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীতে জমে উঠেছে গ্রামীণ কৃষিজ ও প্রাকৃতিক উপকরণের জমজমাট মৌসুমি বাজার। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে নগরীর স্বরোড সড়কের মমতাজ মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আশপাশের উপজেলা থেকে আসা প্রান্তিক চাষি ও মৌসুমি বিক্রেতারা নতুন ধানের ছড়া, মানকচু, কাঁচা হলুদ, কলাগাছের ড্যাম, কলার খোল, পদ্মফুল ও বেলপাতাসহ হরেক রকম প্রাকৃতিক উপকরণের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
লক্ষ্মীপূজা ঘিরে বরিশালে জমে উঠেছে গ্রামীণ কৃষিজ উপকরণের মৌসুমি বাজার

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের অর্জুন মাঝি গ্রাম থেকে দীপক বেপারী, সুশীল বেপারী, রবিন করাতী, সমীর মাল, নিমাই শিকদার, ঝন্টু বেপারী ও আশিক গাইনসহ ১৪ জন গ্রামীণ বিক্রেতা নিজেদের খেত ও জলাশয় থেকে সংগৃহীত এসব কৃষি উপকরণ নিয়ে শহরে এসেছেন। বছরে এক দিনের এই বিশেষ বাজারে পণ্য বিক্রি করে প্রান্তিক পরিবারগুলো বাড়তি নগদ আয়ের সুযোগ পান।
বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধানের ছড়া, অশোক পাতা, মানকচু, কাঁচা হলুদ ও আফানের সমন্বিত আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। এছাড়া প্রতিটি কলাগাছের ড্যাম ২০০ টাকা, কলার খোল ২০ টাকা, সুপারি ছড়া ৩৫ টাকা, পদ্মফুল ২০ টাকা, নলথুরি ফুল ২০ টাকা, বেলপাতা ১৫ টাকা এবং কলাপাতা, কেওড়া ফুল, আমপাতা, দূর্বাঘাস ও তুলসীপাতা ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে উপকরণ কিনতে আসা ক্রেতা গোপাল সরকার জানান, শস্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক লক্ষ্মীপূজায় এসব প্রাকৃতিক ও কৃষিজ উপকরণ অপরিহার্য এবং সরাসরি গ্রাম থেকে আসা বিক্রেতাদের কাছ থেকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে তাজা উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে।
বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের পর পূর্ণিমা তিথিতে ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং গ্রামীণ উৎপাদকদের সরবরাহ করা এসব কৃষি উপকরণ ঘিরে নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/bangla/news/352963)।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক
কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।




