খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় অনুমোদনহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির দায়ে আনিসুর রহমান ওরফে পলাশ মাহমুদ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে তিনটি জবাই করা ঘোড়ার প্রায় তিন মণ মাংস জব্দ এবং একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনে এই দণ্ডাদেশ দেন।
খুলনার ডুমুরিয়ায় তিন মণ ঘোড়ার মাংস ও জীবিত ঘোড়া জব্দ, বিক্রেতার কারাদণ্ড

অভিযান-সংশ্লিষ্ট সিপিসি-১ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দীন মোহাম্মদ জিহাদ জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর পোড়াবাড়ি এলাকার ‘সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল ফার্ম’ নামের একটি খামারে অভিযান চালিয়ে পলাশ মাহমুদকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক পলাশ মাহমুদ স্বীকার করেছেন যে, তাঁদের চক্রটি এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি ঘোড়া জবাই করে গরু বা খাসির মাংস হিসেবে বিভিন্ন স্থানের হোটেল ও মাংস ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল কবির জানান, ভেটেরিনারি পরীক্ষা ছাড়াই সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব ঘোড়া জবাই করা হয়েছিল, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দ করা তিন মণ মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়েছে।
এছাড়া খামার থেকে উদ্ধার করা জীবিত ঘোড়াটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মুনছুর আলী শেখের জিম্মায় প্রদান করা হয়েছে। মাংসের বাজারে প্রতারণা ও ভেজাল রোধে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/bangla/news/353078)।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক
কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।




