হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা শুরু হতেই নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় খেজুর গাছ পরিচর্যা ও আগাম রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মৌসুমি গাছিরা। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক, ফসলের মাঠের আইল এবং বিশেষ করে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পুরোনো আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন থেকে মহাদিঘী পর্যন্ত রেললাইনের দুই ধারের প্রায় ৩০০টি খেজুর গাছে মাটির হাঁড়ি পাতার কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সরেজমিন তথ্যে এই মৌসুমি কর্মযজ্ঞের চিত্র পাওয়া গেছে।
হেমন্তের শুরুতেই নওগাঁর আত্রাইয়ে খেজুরের রস ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত গাছিরা

স্থানীয় পর্যায়ে অভিজ্ঞ গাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রতি বছরের মতো এবারও রাজশাহীর বাঘা ও আড়ানী এবং নাটোরের লালপুর এলাকা থেকে দক্ষ গাছিরা আত্রাইয়ে এসে অস্থায়ীভাবে অবস্থান নিয়েছেন। প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি বাঁধা এবং ভোররাতে রস নামিয়ে জ্বাল দিয়ে সুস্বাদু লালি ও পাটালি গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁদের।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের গাছি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তিনিসহ তিনজন গাছি রেললাইনের পাশের গাছসহ প্রায় ২০০টি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। বছরের এই চার মাসের উপার্জন দিয়েই তাঁরা পুরো বছরের পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করেন। এখানে উৎপাদিত খাঁটি লালি ও খেজুরের গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও সরবরাহ করা হয়।
নাটোরের লালপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের গাছি আব্দুল ইসলাম জানান, খেজুর গাছ কাটা, রসের নলি বসানো এবং সঠিক তাপমাত্রায় রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করা অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য ও অভিজ্ঞতানির্ভর কাজ। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মৌসুমি আয়ের আশায় তাঁরা বংশপরম্পরায় এই পেশা ধরে রেখেছেন।
আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, পতিত জমি ও সড়কের ধারে বিনা খরচে বেড়ে ওঠা খেজুর গাছ একদিকে যেমন সুস্বাদু রস ও গুড়ের জোগান দেয়, অন্যদিকে গ্রামীণ জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও ভূমিকা রাখে। পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ রোপণ ও পরিচর্যা বাড়ানো হলে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/news/437958)।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক
কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।




