হেমন্তের শুরুতে তিস্তা নদীর পানি কমতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার চরাঞ্চলে। চোখের সামনে উঠতি আমন ধানের ক্ষেত নদীগর্ভে ধসে পড়তে থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের কৃষকেরা। ফসল সম্পূর্ণ হারানোর চেয়ে অন্তত গোখাদ্য হিসেবে কাজে লাগাতে আধাপাকা ও কাঁচা আমন ধান কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক চাষি। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সরেজমিন তথ্যে এবং কৃষি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এ পরিস্থিতির কথা জানা গেছে।
তিস্তার অসময়ের ভাঙনে বিলীন ফসলি জমি: আধাপাকা আমন ধান কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন চাষিরা

স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশসাল চর এবং হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি এলাকায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৭টি পরিবারের বসতভিটা এবং উঠতি আমন ফসলসহ অন্তত ৫০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে থাকা অনেক পরিবার ঘরের চালা ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইখুল আরেফিন জানিয়েছেন, তিস্তার উভয় তীরে আকস্মিক ভাঙন তীব্র হওয়ায় কৃষকেরা ফসল রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে কাঁচা ধান কেটে ফেলছেন এবং এখন পর্যন্ত অন্তত সাড়ে ১৭ বিঘা জমির অপরিপক্ব আমন ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী এবং চল্লিশসাল চরের কৃষক জাহেদুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় নদীর মূল স্রোত চরের ফসলি জমির দিকে ধাবিত হওয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন জমি ভেঙে পড়ছে। গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় এবং রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানিয়েছেন, পানি হ্রাসের সময়ে এই আকস্মিক ভাঙনের বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং জরুরি বরাদ্দ সাপেক্ষে তীর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/bangla/news/353015)।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক
কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।




