বাতাস চলাচল ব্যবস্থার মাধ্যমে ৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ তাজা রেখে বাজারদর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

পেঁয়াজ পচনরোধে বিশেষায়িত দেশীয় মডেলের এয়ার-ফ্লো গোডাউন উদ্ভাবন

মো. আনিসুজ্জামান, ফরিদপুর ব্যুরো(চিফ এডিটর)
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২৭৮১ বার পঠিত
কৃষি গোডাউনে লাল পেঁয়াজের তাজা স্তূপ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা
দেশীয় এয়ার-ফ্লো মডেলের সংরক্ষণাগারে দীর্ঘ সময় পেঁয়াজ তাজা রেখে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করছেন চাষীরা।ছবি: কৃষিবার্তা প্রতিনিধি / ফরিদপুর
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তিতে পেঁয়াজের পচনশীলতার হার ৩০% থেকে নেমে এসেছে ৫%-এ
  • কৃষকরা দীর্ঘ ৮-৯ মাস পেঁয়াজ তাজা রেখে অফ-সিজনে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন
  • ফরিদপুর ও পাবনায় সরকারি সহায়তায় নির্মিত হয়েছে আধুনিক মডেল গোডাউন

দেশে বছরে ৩৫ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হলেও উপযুক্ত সংরক্ষণাগারের অভাবে প্রায় ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ পচে বা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজের বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতো। এই সমস্যা সমাধানে ফরিদপুর ও পাবনার কৃষকরা বিশেষায়িত ‘এয়ার-ফ্লো পেঁয়াজ মডেল’ গ্রহণ করছেন।

বাঁশ, কাঠ ও বৈদ্যুতিক ফ্যানের সমন্বিত মডেল

এই গোডাউনে মাচা তৈরি করা হয় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে, যার তলায় ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। নিচে স্থাপন করা হয় বিশেষ ধরনের এক্সহস্ট ফ্যান ও ব্লোয়ার। এর ফলে পেঁয়াজের স্তূপের মধ্য দিয়ে সার্বক্ষণিক শুষ্ক বাতাস প্রবাহিত হয় এবং আর্দ্রতা জমতে পারে না।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীর পেঁয়াজচাষী রোকনুজ্জামান জানান, "আগে ঘরে পেঁয়াজ রাখলে বর্ষাকালে গরমে পচে পানি বের হয়ে যেত। এই এয়ার-ফ্লো ঘরে ২০০ মণ পেঁয়াজ রেখেছিলাম, ৮ মাস পরও একটা পেঁয়াজেও পচন ধরেনি। এতে মৌসুমে কম দামে বিক্রি না করে এখন দ্বিগুণ লাভে বিক্রি করছি।"

আমদানি নির্ভরতা কমানোর জাতীয় কৌশল

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে সরকারি ভর্তুকিতে এই ধরনের ২ হাজার সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হয়েছে, যা দেশের পেঁয়াজ নিরাপত্তায় স্থায়ী সমাধান আনবে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

মো. আনিসুজ্জামান, ফরিদপুর ব্যুরো

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

সম্পর্কিত সংবাদ

কৃষি বিভাগের আরও সংবাদ →
পেঁয়াজ পচনরোধে বিশেষায়িত দেশীয় মডেলের এয়ার-ফ্লো গোডাউন উদ্ভাবন | কৃষিবার্তা