বরেন্দ্র অঞ্চলের সহস্রাব্দ প্রাচীন দিঘি ও পাল আমলের টেকসই জলাধার ব্যবস্থাপনার পাঠ

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক(চিফ এডিটর)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ বার পঠিত
বরেন্দ্র অঞ্চলের সুবিশাল প্রাচীন দীঘি ও চারপাশের সবুজ পাড়
পাল আমলে খনন করা প্রাচীন ঐতিহাসিক দীঘি যা শতাব্দী ধরে কৃষির সেচকাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।ছবি: কৃষিবার্তা ঐতিহ্য ডেস্ক / নওগাঁ ব্যুরো
হরফ:
উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র ভূমির ইতিহাস শুধু রাজনৈতিক উত্থান-পতনের নয়, বরং প্রকৃতির চরম বৈরিতাকে জয় করে খাদ্য উৎপাদনের এক অনন্য সংগ্রামের ইতিহাস। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ও ঐতিহাসিক নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাল যুগে (অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক) নওগাঁ, দিনাজপুর, জয়পুরহাট ও রাজশাহীর লাল মাটির উচ্চভূমিতে হাজার হাজার সুবিশাল দিঘি খনন করা হয়েছিল। এসব দিঘির অবস্থান ছিল ভৌগোলিক ভূ-প্রকৃতির ঢালু অংশের সংযোগস্থলে, যাতে বর্ষার প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটা প্রাকৃতিকভাবে গড়িয়ে এসে এই গভীর জলাধারগুলোতে জমা হয়। দিব্যকের স্মৃতিবিজড়িত দিবর দিঘি, আলতাদীঘি কিংবা মহীসালের মতো জলাশয়গুলো ছিল প্রাচীন প্রকৌশল বিদ্যার অনন্য নিদর্শন। ইতিহাসবিদরা জানাচ্ছেন, মধ্যযুগে বরেন্দ্রর কৃষকরা এই দিঘিগুলো থেকে কাঠের তৈরি দোলা ও সেঁউতি দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে জমিতে পানি সরবরাহ করতেন, যা ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে সুরক্ষিত রাখত শত শত বছর ধরে। বর্তমানের গভীর নলকূপনির্ভর অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের যে সংকট বরেন্দ্র অঞ্চলে তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে প্রাচীন এই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ভূপৃষ্ঠের জলাশয় মডেলটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতিকে শাসন করে নয়, বরং প্রকৃতির নিয়মে জল ধারণ করাই ছিল আবহমান বাংলার কৃষির মূল ভিত্তি।
প্রতিবেদক পরিচিতি

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

বরেন্দ্রের প্রাচীন দিঘি ও পাল আমলের সেচ ইতিহাস | কৃষিবার্তা