রোমভিত্তিক জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত সর্বশেষ ‘ক্রপ প্রস্পেক্টস অ্যান্ড ফুড সিচুয়েশন’ (Crop Prospects and Food Situation) প্রতিবেদনে বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের উৎপাদন ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৬ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে প্রধান খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চাল ও গমের বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার অনুকূল আবহাওয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর বর্ধিত ফলন আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা অনেকাংশে কমিয়ে এনেছে।
চাল উৎপাদনে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি
এফএও-র শস্য পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ মৌসুমে বৈশ্বিক চালের উৎপাদন প্রায় ৫৩ কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে, যা গত দশকের অন্যতম সর্বোচ্চ উৎপাদন স্তর। এশিয়া অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের সন্তোষজনক বৃষ্টিপাত এবং খরা ও লবণাক্ততা প্রতিরোধী হাইব্রিড ও উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ এই প্রবৃদ্ধিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে ফলনের ধারা সন্তোষজনক থাকায় আন্তর্জাতিক চালের বাজারে মূল্যের অতিরিক্ত অস্থিরতা কমে এসেছে। চাল রপ্তানিকারক দেশগুলো তাদের বাণিজ্যনীতি নমনীয় রাখায় বিশ্বজুড়ে আমদানি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলো খাদ্য সুরক্ষায় স্বস্তি পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গম সরবরাহ ও বাফার মজুত
গমের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের উৎপাদন পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা শ্লথ হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ভারসাম্য বজায় রয়েছে। এফএও-র হিসাব মতে, ২০২৬ সালের সমাপ্তিতে বিশ্বের প্রধান খাদ্যশস্যের বাফার স্টক বা মজুত সন্তোষজনক স্তরে থাকবে, যা যেকোনো স্থানীয় আকস্মিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার মতো নিরাপদ কুশন তৈরি করেছে।
জলবায়ু ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ করণীয়
তবে ইতিবাচক উৎপাদনের পূর্বাভাসের পাশাপাশি চরম আবহাওয়ার স্থায়ী ঝুঁকির বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে এফএও। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অপ্রত্যাশিত বন্যা, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং আকস্মিক খরা যেকোনো মুহূর্তে স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে।
এফএও-র অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন পরিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারকে খাদ্য অপচয় রোধ, আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের হাতে সময়োপযোগী কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। স্থিতিশীল বিশ্ববাজারের সুফল যাতে সাধারণ কৃষক ও ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য আঞ্চলিক বাণিজ্য সহযোগিতা ও পরিবহন খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।