ফিলিপাইনে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈশ্বিক সম্মেলন: নতুন জাতের মাঠপর্যায়ের ট্রায়াল সফল

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ায় খরা ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু ধানের জাত সম্প্রসারণে ইরি-র উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক(চিফ এডিটর)
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৯ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ৯৬ বার পঠিত
সাদা ধবধবে সুগন্ধি চালের নিখুঁত স্তূপ ও শৈল্পিক উপস্থাপন
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের সুগন্ধি চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা চাল।ছবি: কৃষিবার্তা নিজস্ব আলোকচিত্রী / দিনাজপুর
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • ইরি ও দক্ষিণ এশীয় কৃষি বিজ্ঞানীদের যৌথ গবেষণায় নতুন জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন।
  • ১২ ডিএস/মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা এবং টানা ৩ সপ্তাহের অনাবৃষ্টিতেও টিকে থাকবে শস্য।
  • প্রচলিত জাতের তুলনায় হেক্টরপ্রতি প্রায় ১.৫ টন পর্যন্ত অতিরিক্ত ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা।
  • দ্রুত বীজ প্রত্যয়ন ও কৃষক পর্যায়ে সরবরাহের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।

ফিলিপাইনের লস বানোসে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি - IRRI) দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য নতুন প্রজন্মের খরা ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবনে বড় সাফল্যের ঘোষণা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সম্পন্ন হওয়া বহু-দেশীয় মাঠপর্যায়ের ট্রায়ালে দেখা গেছে, নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো প্রতিকূল পরিবেশেও স্বাভাবিক জাতের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম।

উপকূলীয় ও খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য সমাধান

দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসের কারণে মাটির লবণাক্ততা দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে বরেন্দ্র অঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমের সমতল ভূমিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় মৌসুমি খরার প্রকোপ তীব্র হচ্ছে। এই দ্বিমুখী সংকট মোকাবিলায় ইরি-র উদ্ভিদ প্রজনন বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং ভারতের কৃষি গবেষণা পরিষদের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন।

নতুন জাতগুলো মাটি ও পানির ১২ ডিএস/মিটার (dS/m) পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এবং ফুল ফোটার চূড়ান্ত পর্যায়ে টানা ২১ দিন পানির অভাব সত্ত্বেও পরাগায়নে বিঘ্ন ঘটে না। এর ফলে উপকূলের নিচু ভূমি ও খরাপ্রবণ এলাকার কৃষকরা চরম আবহাওয়ার মধ্যেও নিশ্চিন্তে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।

জিন ব্যাংক ও দ্রুত বীজ সম্প্রসারণ

ইরি-র মহাপরিচালক এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, ‘আন্তর্জাতিক ধান জিন ব্যাংক থেকে সংগৃহীত ঐতিহ্যবাহী জাতের সহনশীল বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আধুনিক মলিকুলার ব্রিডিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্যনিরাপত্তা ধরে রাখতে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন সরাসরি কৃষকের মাঠে দ্রুত নিয়ে যাওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।’

আগামী রবি ও আমন মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচিত ক্লাস্টারে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই বীজের পরীক্ষামূলক চাষ সম্প্রসারণ করা হবে। কৃষকদের মধ্যে বীজ সুলভ ও সহজলভ্য করতে প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

ট্যাগ:#আন্তর্জাতিক#ইরি (IRRI)#ধান চাষ
প্রতিবেদক পরিচিতি

আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত সম্প্রসারণে ইরি | KrishiBartha | কৃষিবার্তা