প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সার শিল্প সংস্থা (আইএফএ - IFA) ও বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পণ্য বাজার পর্যালোচনায় (Commodity Markets Outlook) বিশ্ববাজারে রাসায়নিক সারের মূল্যে ইতিবাচক স্থিতিশীলতার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তীব্র মূল্যস্ফীতি ও লজিস্টিক সংকটের পর ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক ইউরিয়া, ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ও এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সারের দাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বাভাবিক সহনশীল সীমায় অবস্থান করছে।
গ্যাস মূল্য হ্রাস ও উৎপাদন সক্ষমতা
প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) আন্তর্জাতিক বাজারদর ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ফেরায় ইউরিয়া সার কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন সার প্ল্যান্টগুলোর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে (Arabian Gulf) বাল্ক ইউরিয়ার টনপ্রতি এফওবি দর স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকার মরক্কো এবং মিশরে ফসফেট শিলা উত্তোলনে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ ডিএপি ও টিএসপি সারের বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। সমুদ্রপথে কনটেইনার ও বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ ভাড়ার স্বাভাবিকীকরণও বৈশ্বিক সার আমদানি খরচ সাশ্রয়ী করতে ভূমিকা রেখেছে।
আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য সুযোগ
বিশ্ববাজারে সারের দাম স্থিতিশীল থাকায় বাংলাদেশ, ভারত, ব্রাজিল ও পাকিস্তানের মতো বৃহৎ আমদানিকারক দেশগুলোর সরকারি বাজেট থেকে সার ভর্তুকির বিশাল আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব হবে। আন্তর্জাতিক দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পর্যায়ে (G2G) চুক্তির আওতায় পূর্ব নির্ধারিত মূল্যে নিয়মিত সার চালান খালাস করা সহজ হচ্ছে।
তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, আমদানিকৃত রাসায়নিক সারের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা চিরস্থায়ী সমাধান নয়। স্থিতিশীল বিশ্ববাজারের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশীয় সার কারখানাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে ন্যানো ইউরিয়া ও সুষম জৈব সার প্রয়োগের মতো টেকসই কৃষি কৌশল দ্রুত জোরদার করতে হবে।