বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির উচ্চমূল্যের ক্যাশ ক্রপ দেশের আমদানি নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র

পাহাড়ের ঢালু জমিতে কফি ও কাজুবাদাম চাষে চাষীদের নতুন অর্থনৈতিক স্বপ্ন

উইচিংপ্রু মারমা, খাগড়াছড়ি(চিফ এডিটর)
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২১৩১ বার পঠিত
পাহাড়ের ঢালে কফি গাছের সবুজ পাতার মাঝে লাল কফি চেরি
বান্দরবানের পাহাড়ি জমিতে অ্যারাবিকা জাতের কফি চাষে বিপ্লব এনেছেন স্থানীয় প্রান্তিক চাষীরা।ছবি: কৃষিবার্তা প্রতিনিধি / পার্বত্য ব্যুরো
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • পার্বত্য তিন জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর পাহাড়ি জমিতে কফি ও কাজুবাদাম সম্প্রসারণ
  • আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যারাবিকা ও রোবাস্তা জাতের সফল উৎপাদন
  • আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্থায়ী জীবিকায়ন

বান্দরবানের রুমা ও থানচি এবং খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সবুজ পাহাড়ি ঢালে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা কফি চেরি ও কাজুবাদামের গাছ। পাহাড়ি মাটির বিশেষ গঠন ও আর্দ্র আবহাওয়া বিশ্বখ্যাত ‘অ্যারাবিকা’ ও ‘রোবাস্তা’ জাতের কফি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

আমদানি বিকল্প বহুমুখী সম্ভাবনাময় খাত

বাংলাদেশকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে কাজুবাদাম ও কফি কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় চাষীদের বিনামূল্যে কলমের চারা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

বান্দরবানের চিম্বুক রোডের চাষী মেনলুং ম্রো জানান, "আগে জুমে ধান ও তিল চাষ করে কোনোমতে সংসার চলত। চার বছর আগে ৩ একর জমিতে ৫০০ কফি ও কাজুবাদামের চারা লাগিয়েছিলাম। এখন প্রতি কেজি কাঁচা কাজুবাদাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই গাছে ৩০ বছর পর্যন্ত ফলন মিলবে।"

প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন

চাষীদের উৎপাদিত কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে খোসা ছাড়ানো ও রোস্টিং করার জন্য ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়িতে আধুনিক প্রসেসিং ইউনিট গড়ে উঠছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পাহাড়ি প্রিমিয়াম কফি দেশের অভিজাত ক্যাফেগুলোতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

উইচিংপ্রু মারমা, খাগড়াছড়ি

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

সম্পর্কিত সংবাদ

কৃষি বিভাগের আরও সংবাদ →
পাহাড়ের ঢালু জমিতে কফি ও কাজুবাদাম চাষে চাষীদের নতুন অর্থনৈতিক স্বপ্ন | কৃষিবার্তা