অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রায়িং পদ্ধতিতে এক-তৃতীয়াংশ সেচের পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়

বোরো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধে এডব্লিউডি প্রযুক্তির প্রসার

মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষি ডেস্ক(চিফ এডিটর)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ৩৮৪৭ বার পঠিত
বোরো ধানের সবুজ মাঠে সেচ নালার পাশে পানি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা
বোরো মৌসুমে ফসলের জমিতে সেচ সাশ্রয়ী এডব্লিউডি প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পানি সরবরাহ করছেন কৃষকরা।ছবি: কৃষিবার্তা ফটো ডেস্ক / নিজস্ব আলোকচিত্রী
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • এডব্লিউডি পদ্ধতিতে বোরো চাষে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সেচের পানি সাশ্রয় হচ্ছে
  • দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে সেচ খরচে হেক্টরপ্রতি প্রায় ১,৫০০ টাকা কম লাগছে
  • মাটির নিচে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যবেক্ষণ পাইপের মাধ্যমে পানির স্তরের সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখা যায়
  • ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে বিশেষ প্রদর্শনী

দেশের উত্তরাঞ্চলসহ প্রধান শস্যভাণ্ডারগুলোতে বোরো ধান চাষের ভরা মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ‘অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রায়িং’ (এডব্লিউডি) এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। কৃষকরা জমিতে সার্বক্ষণিক পানি আটকে না রেখে মাটির আর্দ্রতা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত সেচ দিচ্ছেন, যার ফলে মোট ব্যবহৃত পানির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সাশ্রয় হচ্ছে।

পানি পর্যবেক্ষণ পাইপের সফল ব্যবহার

কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক পাইপ ধানের জমিতে পুঁতে পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাইপের ভেতরে পানির স্তর যখন মাটির উপরিভাগ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার নিচে নেমে যায়, তখনই কেবল জমিতে পরবর্তী সেচ প্রদান করা হয়। এতে ধানের শিকড়ে বাতাস চলাচল বাড়ে এবং গাছ অধিক সংখ্যক কুশি উৎপাদন করে।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক আকবর আলী বলেন, "আগে আমরা ভেবেছিলাম জমিতে সবসময় পানি না থাকলে ধানের ফলন কমে যাবে। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এডব্লিউডি পাইপ ব্যবহার করে দেখছি ডিজেল ও বিদ্যুতের খরচ প্রায় হাজার টাকা কমেছে, অথচ ধানের শিষ আরও পুষ্ট হয়েছে।"

জাতীয় পানিসম্পদ ও কৃষি ব্যয় সুরক্ষা

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সাম্প্রতিক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত সেচ পদ্ধতিতে এক কেজি ধান উৎপাদনে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয়। এডব্লিউডি প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নে এই পানির পরিমাণ ১,৮০০ থেকে ২,০০০ লিটারে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং দেশের বরেন্দ্র ও তিস্তা অববাহিকায় সেচ পানির টেকসই ব্যবস্থাপনায় আগামী পাঁচ বছরে শতভাগ বোরো জমিতে এডব্লিউডি সম্প্রসারণ করা জরুরি।

প্রতিবেদক পরিচিতি

মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষি ডেস্ক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

সম্পর্কিত সংবাদ

কৃষি বিভাগের আরও সংবাদ →
বোরো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধে এডব্লিউডি প্রযুক্তির প্রসার | কৃষিবার্তা