আন্তর্জাতিক বাজারে রাসায়নিক সারের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের অগ্রাধিকার

জাতীয় কৃষি নীতি: সারে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থার তাগিদ

তানভীর মাহমুদ, সংসদ ও নীতি বিষয়ক ব্যুরো(চিফ এডিটর)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ৪১২১ বার পঠিত
সরকারি সার গুদামে সারের বস্তা আনলোড করছেন শ্রমিকরা
সারের সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় গুদামজাতকরণের আধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।ছবি: কৃষিবার্তা ফটো ডেস্ক / জাতীয় সংসদ প্রেস পুল
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • আসন্ন জাতীয় বাজেটে কৃষি ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা
  • ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সার বিতরণ কার্যক্রমে ডিলারদের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ
  • ইউরিয়া ও ডিএপি সারে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ চালু
  • কৃষি উপকরণের সরবরাহ ব্যাহত না করার দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বসম্মত ঐক্য

দেশের খাদ্য উৎপাদনের ধারাকে সচল রাখতে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ সহনীয় পর্যায়ে ধরে রাখতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষি ভর্তুকির আকার আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি সারের দরবৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রান্তিক কৃষক যাতে সুলভ মূল্যে সার পান, সে লক্ষ্যে বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সারের কৃত্রিম সংকট রোধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট কিংবা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশিতে সার বিক্রি বন্ধে দেশব্যাপী ডিজিটাল ডিলারশিপ ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত হবে এবং কালোবাজারি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে সার ও বিদ্যুতে প্রদত্ত ভর্তুকি কোনোভাবেই কমানো যাবে না। তবে এই ভর্তুকির সুফল যেন মধ্যস্বত্বভোগী ডিলাররা না পেয়ে সরাসরি মাঠের কৃষকের পকেটে পৌঁছায়, সেজন্য প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন।"

উচ্চফলনশীল শস্যে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা

অর্থনীতিবিদ ও কৃষি নীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডলারের বিনিময় হারের কারণে আমদানিনির্ভর সারের সরবরাহ শৃঙ্খলে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ জাতীয় আয়ের ন্যূনতম ৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। খাদ্য সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে সারে বিনিয়োগ দেশের সবচেয়ে লাভজনক সুরক্ষা কবচ।

প্রতিবেদক পরিচিতি

তানভীর মাহমুদ, সংসদ ও নীতি বিষয়ক ব্যুরো

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

জাতীয় কৃষি নীতি: সারে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থার তাগিদ | কৃষিবার্তা