সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়: জলবায়ু সহনশীল জাত সম্প্রসারণ ও দুর্যোগকালীন জরুরি বীজ মজুত গড়ে তোলার গুরুত্ব

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক(চিফ এডিটর)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ বার পঠিত
মাটির পাত্রে সাজানো বিভিন্ন রঙের দেশীয় ফসলের বীজ
বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফসলের জাত টিকিয়ে রাখতে গ্রামীণ কৃষাণীদের কমিউনিটি বীজ ব্যাংকের কার্যক্রম।ছবি: কৃষিবার্তা ঐতিহ্য ডেস্ক / টাঙ্গাইল
হরফ:
জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব আজ বাংলাদেশের কৃষিখাতে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। অসময়ে অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী বন্যা এবং মৌসুমের শুরুতে তীব্র খরার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাকৃতিক বিপর্যয় এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে হলে সনাতন জাতের পরিবর্তে খরা, বন্যা ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু আধুনিক জাতের ধানের বিস্তার বাড়ানো এখন কোনো বিকল্প নয়, বরং জাতীয় অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ইতিমধ্যে জলমগ্নতা সহনশীল ব্রি ধান-৫১, ৫২ এবং খরা সহনশীল ব্রি ধান-৫৬, ৭১-এর মতো বহু চমৎকার জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সাধারণ কৃষকদের কাছে এই জাতগুলোর মানসম্মত প্রজনন বীজ সময়মতো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো কিছু লজিস্টিক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। দুর্যোগের পরপরই কৃষকরা যেন তাৎক্ষণিকভাবে দ্বিতীয়বার জমিতে চারা রোপণ করতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে জরুরি ‘কমিউনিটি বীজ ব্যাংক’ গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সাথে বেসরকারি বীজ কোম্পানি ও সরকারি ডিলারদের মাধ্যমে ভেজাল বা নিম্নমানের বীজ বিপণনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ। কৃষকের মেধা, ঘাম ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে সরকারি সহায়তা ও উন্নত বীজের সুরক্ষায় বেঁধে দিতে পারলে যেকোনো বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের মাঝেও বাংলাদেশ তার আত্মমর্যাদাশীল খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদক পরিচিতি

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

সম্পাদকীয়: জলবায়ু সহনশীল জাত সম্প্রসারণ ও দুর্যোগকালীন জরুরি বীজ মজুত গড়ে তোলার গুরুত্ব | কৃষিবার্তা