সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়: কৃষিযন্ত্রের স্থানীয় মেরামত ও ক্ষুদ্র প্রকৌশল খাতের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের তাগিদ

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক(চিফ এডিটর)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ বার পঠিত
ওয়ার্কশপে কৃষি যন্ত্রপাতির ধাতু ঝালাই ও সংযোজনের দৃশ্য
বগুড়ার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কৃষিকাজের আধুনিক মাড়াই যন্ত্র ও লাঙ্গল প্রস্তুত করছেন কারিগররা।ছবি: কৃষিবার্তা প্রতিনিধি / বগুড়া
হরফ:
কৃষিকাজে শ্রমিকের ঘাটতি ও মজুরি বৃদ্ধির বাস্তবতায় বাংলাদেশ দ্রুত যান্ত্রিকীকরণের পথে এগিয়ে চলেছে। সরকারের ভর্তুকি ও কৃষকবান্ধব উদ্যোগের কল্যাণে মাঠে মাঠে এখন রোপণ থেকে শুরু করে ফসল কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কম্বাইন হারভেস্টার ও আধুনিক ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে। এটি নিঃসন্দেহে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে এই যান্ত্রিক অগ্রযাত্রার সবচেয়ে দুর্বল দিকটি দৃশ্যমান হয় যখন একটি ব্যস্ত মৌসুমে যন্ত্রটি হঠাৎ অচল হয়ে পড়ে। আমাদের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বেশিরভাগ আধুনিক কৃষিযন্ত্র আমদানিনির্ভর হওয়ায় এর জটিল যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে স্থানীয় মিস্ত্রিরা তা সহজে মেরামত করতে পারেন না। জেলা শহর বা ঢাকা থেকে স্পেয়ার পার্টস আনিয়ে মেরামত করতে গিয়ে মূল্যবান ৩-৪ দিন নষ্ট হয়, যার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে মাঠে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে বগুড়া, যশোর ও পাবনার যে দেশীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশল খাত গড়ে উঠেছে, সেটিকে অবিলম্বে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া দরকার। সেখানে কারিগরি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে তরুণদের আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে দেশীয় কারখানাতেই গুণগত মানের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি সম্ভব। একই সাথে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল সার্ভিসিং টিম এবং কৃষিযন্ত্রের স্পেয়ার পার্টসের প্রত্যয়িত ব্যাংক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণকে টেকসই রূপ দিতে স্থানীয় মেরামত দক্ষতাকে উপেক্ষা করার কোনো অবকাশ নেই।
প্রতিবেদক পরিচিতি

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

সম্পাদকীয়: কৃষিযন্ত্রের স্থানীয় মেরামত ও হালকা প্রকৌশলের বিকাশ | কৃষিবার্তা