প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে প্রণোদনা বরাদ্দে স্থানীয় পক্ষপাত দূর করার আহবান

তৃণমূল কৃষকের অধিকার নিশ্চিতে ইউনিয়ন পরিষদ কৃষি স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের দাবি

গোলাম কিবরিয়া, স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ অর্থনীতি(চিফ এডিটর)
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২১৮১ বার পঠিত
ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সমবেত কৃষক ও গ্রামীণ মানুষের মতবিনিময় সভা
কৃষি প্রণোদনার স্বচ্ছ বিতরণ নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক কমিটির ভূমিকা পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।ছবি: কৃষিবার্তা লোকাল করেসপন্ডেন্ট / রংপুর
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • ইউনিয়ন পরিষদের কৃষি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি কার্যকর করার জন্য নীতিগত নির্দেশনা
  • বর্গাচাষী ও নারী কৃষকদের কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করার দাবি
  • ওয়ার্ড পর্যায়ে উন্মুক্ত কৃষক সভার মাধ্যমে সার-বীজ প্রণোদনার তালিকা যাচাইয়ের প্রস্তাব
  • তৃণমূলের জবাবদিহি বাড়াতে উপজেলা কৃষি অফিসের মনিটরিং সেল গঠন

তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং প্রান্তিক কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ১৩টি বাধ্যতামূলক স্থায়ী কমিটির মধ্যে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কমিটিকে পূর্ণ কার্যকর করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের কৃষক প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। অভিযোগ রয়েছে, বহু ইউনিয়নে এই কমিটির নিয়মিত বৈঠক হয় না এবং বরাদ্দ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়।

বর্গাচাষীদের জন্য স্বতন্ত্র তালিকা প্রণয়ন

বর্তমানে সরকারিভাবে কৃষি কার্ড ও প্রণোদনা বিতরণের ক্ষেত্রে জমির প্রকৃত মালিকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, যার ফলে দেশে থাকা লক্ষাধিক বর্গাচাষী ও ভূমিহীন দিনমজুর সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। ইউনিয়ন পরিষদ কৃষি স্থায়ী কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ প্রকৃত বর্গাচাষী ও নারী কৃষকদের বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কৃষক ঐক্যজোটের এক সমাবেশে বক্তারা বলেন, "প্রণোদনার বীজ ও সার যখন আসে, তখন মেম্বার-চেয়ারম্যানের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। যদি ওয়ার্ডভিত্তিক উন্মুক্ত কৃষক সভার মাধ্যমে তালিকা অনুমোদন করা হয়, তবে স্বচ্ছতা আসবে এবং প্রকৃত উৎপাদনকারী উপকৃত হবে।"

সুশাসন ও স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিয়মিত সামাজিক নিরীক্ষা (সোশ্যাল অডিট) চালু করা হলে প্রান্তিক কৃষকের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

গোলাম কিবরিয়া, স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ অর্থনীতি

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

তৃণমূল কৃষকের অধিকার নিশ্চিতে ইউনিয়ন পরিষদ কৃষি স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের দাবি | কৃষিবার্তা