মরহুম ড. মাকসুদুল আলমের গবেষণার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অভাবনীয় সাফল্য

পাটের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের সুফল: খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল নতুন তোষা পাটের জাত উদ্ভাবন

ড. রফিকুল ইসলাম, বায়োটেকনোলজি ও গবেষণা ব্যুরো(চিফ এডিটর)
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ৩৫২১ বার পঠিত
পাট গবেষণা ল্যাবরেটরিতে টেস্ট টিউব ও ডিএনএ বিশ্লেষণের যন্ত্রপাতি
জিনতত্ত্ব গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত উন্নত পাটের জাত মাঠপর্যায়ে চাষের জন্য অবমুক্ত করা হচ্ছে।ছবি: কৃষিবার্তা বিজ্ঞান টিম / বিজেআরআই
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • পাটের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের তথ্য কাজে লাগিয়ে নতুন খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল জাত উদ্ভাবন
  • মার্কার অ্যাসিস্টেড সিলেকশন পদ্ধতিতে প্রজনন সময়কাল অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে
  • উন্নত সেলুলোজযুক্ত আঁশ পাটের সোনালী ব্যাগের গুণগত মান আরও বাড়াবে
  • স্বল্পমেয়াদী জাত হওয়ায় ফসল বিন্যাসে চার ফসলি চক্র বাস্তবায়নের সুযোগ

বিশ্ববিখ্যাত জিনবিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে ২০১০ সালে পাটের জিনোম সিকোয়েন্সিং উন্মোচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কৃষি গবেষণায় এক ঐতিহাসিক দিগন্ত সূচিত হয়েছিল। সেই গবেষণার দীর্ঘমেয়াদী ফসল হিসেবে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) সম্প্রতি খরা ও মধ্যম লবণাক্ততা সহনশীল তোষা পাটের দুটি নতুন জাত মাঠ পরীক্ষার পর চূড়ান্ত ছাড়করণের অনুমোদন পেয়েছে।

আঁশের মান ও জলবায়ু সহনশীলতার জিন শনাক্ত

জিনোম তথ্যের ভিত্তিতে মার্কার অ্যাসিস্টেড ব্রিডিং (এমএবি) পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এমন জিন শনাক্ত করতে পেরেছেন, যা পাটের আঁশের সেলুলোজ গঠনকে আরও মজবুত ও মসৃণ করে। নতুন এই জাতটি প্রচলিত তোষা পাটের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ দিন আগে পরিপক্ব হয়, ফলে কৃষক পাট কাটার পর জমিতে সহজেই পরবর্তী রোপা আমন রোপণ করতে পারেন।

বিজেআরআই-এর মহাপরিচালক বলেন, "জিনোমিক্সের জ্ঞান ব্যবহার করার ফলেই আমাদের দীর্ঘ সনাতনী প্রজনন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়নি। মাত্র কয়েক বছরের মাথায় আমরা প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল পাটের জাত মাঠে নামাতে পেরেছি। এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত চরাঞ্চলেও এখন তোষা পাটের সোনালী আঁশ হাসবে।"

সোনালী ব্যাগের কাঁচামাল ও বৈশ্বিক সম্ভাবনা

নতুন এই জাতের সেলুলোজ পরিমাণ বেশি হওয়ায় এটি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত বায়োডিগ্রেডেবল ‘সোনালী ব্যাগ’ বা পচনশীল পাটের পলিব্যাগ তৈরির আদর্শ কাঁচামাল হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে দারুণ চাহিদা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

ড. রফিকুল ইসলাম, বায়োটেকনোলজি ও গবেষণা ব্যুরো

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

পাটের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের সুফল: খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল নতুন তোষা পাটের জাত উদ্ভাবন | কৃষিবার্তা