হাওর ও চরাঞ্চলের ৫০ হাজার কৃষকের জন্য স্যাটেলাইটভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা

বন্যা ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তায় শস্যবীমা মডেল সম্প্রসারণ

সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ, সিলেট ব্যুরো(চিফ এডিটর)
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২১৫১ বার পঠিত
মাঠে দাঁড়িয়ে ডিজিটাল ট্যাবলেটের মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন মাঠ কর্মকর্তা
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আধুনিক শস্যবীমা মডেল সম্প্রসারিত হচ্ছে।ছবি: কৃষিবার্তা প্রতিনিধি / সুনামগঞ্জ
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • স্যাটেলাইট আবহাওয়ার ডাটা দিয়ে ক্ষতি নিরূপণ করায় কোনো দীর্ঘসূত্রিতা নেই
  • হাওর ও চরাঞ্চলের ৫০ হাজার কৃষক প্রথম ধাপে শস্যবীমার আওতায় এসেছেন
  • সরকার বীমা প্রিমিয়ামে ৭০ শতাংশ আর্থিক ভর্তুকি প্রদান করছে

সুনামগঞ্জের হাওর অববাহিকায় বৈশাখ মাসে পাহাড়ি ঢলের আগাম বন্যা অথবা উত্তরাঞ্চলের খরা কৃষকের সারা বছরের সঞ্চয়কে নিঃস্ব করে দেয়। এই ঝুঁকি দূর করতে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় পাইলট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে ‘আবহাওয়া সূচকভিত্তিক শস্যবীমা’ (Weather Index-based Crop Insurance)।

স্যাটেলাইট ডাটা ও স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিপূরণ

এই বীমার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, কোনো বীমা ইন্সপেক্টরকে সশরীরে মাঠে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ মেপে রিপোর্ট দিতে হয় না। বরং নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও আবহাওয়া স্টেশনের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমের ক্ষতি নিরূপণ করে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের কৃষক আব্দুল করিম জানান, "গত বছর বৈশাখে হাওরে পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাওয়ার তিন দিনের মধ্যে আমার বিকাশ অ্যাকাউন্টে বীমার ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ চলে আসে। এই টাকা না পেলে এবার নতুন করে ধান রোপণ করতে পারতাম না।"

জাতীয় পর্যায়ে বীমা সাবসিডি

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ৩০টি উপজেলায় এই বীমার প্রিমিয়ামের ৭০ শতাংশ সরকারি ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কৃষকের আর্থিক স্থিতিশীলতায় বিপ্লব আনবে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ, সিলেট ব্যুরো

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

বন্যা ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তায় শস্যবীমা মডেল সম্প্রসারণ | কৃষিবার্তা