সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের ব্যাংক হিসাবে টাকা প্রেরণের নতুন কর্মপরিকল্পনা

আমন-বোরো ধান সংগ্রহে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট ভাঙতে ডিজিটাল লটারির আওতা বৃদ্ধির দাবি

মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষি ও বাণিজ্য প্রতিবেদক(চিফ এডিটর)
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১০ PM (বাংলাদেশ সময়) মিনিট পাঠ২৬৭১ বার পঠিত
সরকারি খাদ্য গুদামে ধানের ওজন ও পরীক্ষা করছেন কর্মকর্তারা
সরাসরি মাঠের কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে খাদ্য বিভাগের ডিজিটাল লটারি কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।ছবি: কৃষিবার্তা নিজস্ব সংবাদদাতা / নওগাঁ
হরফ:
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে (Key Highlights)
  • সরকারি সংগ্রহ অভিযানে মধ্যস্বত্বভোগী রোধে 'কৃষকের অ্যাপ' শতভাগ উপজেলায় কার্যকরের সিদ্ধান্ত
  • ডিজিটাল লটারিতে নির্বাচিত কৃষকের ধান জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংক হিসাবে অর্থ প্রেরণ
  • সরকারি খাদ্য মজুত বৃদ্ধি করে চালের পাশাপাশি সরাসরি ধান সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি
  • ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে সহায়তার নির্দেশ

প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে খোলা বাজারে ধানের দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েন প্রান্তিক কৃষকরা। সরকার নির্ধারিত সংগ্রহ মূল্যে খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষক ন্যায্য দাম পান। কিন্তু সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ এবং আর্দ্রতার অজুহাতে সাধারণ কৃষকের ধান ফেরত দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার ‘কৃষকের অ্যাপ’ ভিত্তিক ডিজিটাল সংগ্রহ প্রক্রিয়া দেশব্যাপী সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

কৃষকের অ্যাপ ও স্বচ্ছ লটারি ব্যবস্থা

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের শতাধিক উপজেলায় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকদের আবেদন গ্রহণ করে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ধান সরবরাহকারী কৃষক নির্বাচন করা হচ্ছে। নির্বাচিত কৃষক তার ধান গুদামে জমা দেওয়ার সাথে সাথে সরকার নির্ধারিত মূল্য সরাসরি তার ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়।

দিনাজপুরের কৃষক নেতা হারুন-অর-রশিদ বলেন, "অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ দারুণ এক পদক্ষেপ। তবে গ্রামের সাধারণ কৃষকরা অনেকে স্মার্টফোন চালাতে পারেন না। তাই ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে কৃষকদের বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো দালাল কৃষকের নামে স্লিপ কেটে গুদামে ধান সরবরাহ করতে না পারে।"

জাতীয় খাদ্য মজুত ও গুদামের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি

খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে দেশে আধুনিক সাইলো ও খাদ্য গুদামের মোট ধারণক্ষমতা ৩০ লাখ টনে উন্নীত করার প্রকল্প চলছে। সরকার আশা করছে, এর ফলে মাঠ পর্যায় থেকে আরও বেশি পরিমাণ ধান সংগ্রহ করে বাজারে মূল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদক পরিচিতি

মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষি ও বাণিজ্য প্রতিবেদক

কৃষিবার্তা-এর মাঠপর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদ সংগ্রাহক।

আমন-বোরো ধান সংগ্রহে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট ভাঙতে ডিজিটাল লটারির আওতা বৃদ্ধির দাবি | কৃষিবার্তা